১১ তম ধাপে গাজায় অনুদান বিতরণ – আসসালামু আলাইকুম, গত ২৫ জুন ২০২৪ ফিলিস্তিনের উত্তর গাজ্জায় অনুদান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশী টাকায় ১,০৪,২০০৳। এর মধ্য হতে গাজ্জায় পৌঁছেছে ৮৬,৬৬০৳।
বাকী ১৭,৫৪০৳ ভ্যাট, ট্যাক্স বাবদ কর্তন করা হয়েছে। দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, এটি খুবই বেশি, তা আমরা জানি। কিন্তু আমরা অপারগ।
এই ট্যাক্স এবং ভ্যাট ব্যতিত গাজ্জায় টাকা পাঠানোর মাধ্যম প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়াও ক্রমাগত যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ।
ভবিষ্যতে ট্যাক্স কিভাবে কমানো যায়, এই বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। ১০০% অনুদান নীতিতে আমরা খুবই সিরিয়াস।
যদি আমাদের সামর্থ্য থাকতো তাহলে এই ট্যাক্সের টাকা আমরা নিজেরাই বহন করতাম!
এবার আমাদের অনুদান বিতরণ কার্যক্রম ছিল উত্তর গাযায়। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ভিডিওতে নিশ্চয় উত্তরের অনেক ভিডিও দেখে থাকবেন।
মানুষ সেখানে গাছের পাতা, ঘাস খেয়ে থাকে। খাবার একেবারেই নেই। যা আছে, দাম এতটা বেশি যে, ক্রয়মূল্য সাধ্যের বাহিরে।















আমাদের কার্যক্রম ও প্রকল্প
আমরা উত্তর গাজ্জায় এবার তিনটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।
প্রথমত বিশুদ্ধ পানি বিতরণ।
দ্বিতীয়ত শিশুদের জন্য ডায়াপার বা প্যাম্পার্স বিতরণ।
তৃতীয়ত অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ঔষধ বিতরণ
(খাবার বিতরণ করা এজন্য সম্ভব হয় নি, কারণ উত্তরে খাবার কিনতে পাওয়া যায় না।
আর বিভিন্ন মাধ্যমে খাবার আনা সম্ভব হলেও তার ক্রয়মূল্য আমাদের মোট পরিমাণের চেয়েও বেশি ছিল। তাই ভাত, মাংস বিতরণ করা সম্ভব হয় নি।)





















বিস্তারিত হিসাব
১. জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে আমরা ৫০০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছি। এখানে আমাদের খরচ হয়েছে ২৪,৭৬০৳।
২. জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা নবজাতক এবং কোলের শিশুদের জন্য প্যাম্পার্স বিতরণ করা হয়েছে।
এটির প্রয়োজনীয়তা গাজ্জায় বর্তমানে অনেক বেশি। প্রায় ৮০ জন শিশুর জন্য ৮০ প্যাকেট প্যাম্পার্স বিতরণ করা হয়েছে।
এখানে আমাদের খরচ হয়েছে ৫৩,৬০০৳ । প্রতি প্যাকেটের মূল্য ৬৭০৳ প্রায়।
৩. অসুস্থ ব্যক্তিদের ঔষধ কিনে দেওয়া হয়েছে। এখানে খরচ পড়েছে ৩৫৯০৳
বাকী থাকে ৭১০৳। এর মধ্যে পরিবহন খরচ, ব্যানার-স্টিকার খরচসহ আরো কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে হ্যাঁ, যেহেতু গাজ্জায় লেনদেন হয় ইসরাইলি শেকেল দিয়ে।
আর বর্তমানে ক্রমাগত যুদ্ধের কারণে গাজ্জায় ডলার থেকে ইসরাইলি শেকেলের মূল্য অনেক বেশি উঠানামা করে।
তাই লেনদেনের ক্ষেত্রে সেটি শেকেলে হিসাব করে আমরা উপরোক্ত টাকার হিসাবটি ডলারের হিসাবের সাথে মিলিয়ে আনুমানিক আকারে বের করেছি।
আমরা অবশ্য চেয়েছিলাম, বাচ্চাদের জন্য দুধ বিতরণ করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শত চেষ্টা করেও দুধ পাওয়া যায় নি। এলাকায় কোনো দুধ নেই।
উপরোক্ত টাকাগুলো হিসাব করলে মোট আসে ৮১,৯৫০৳। আরো বাকী থাকে ৪,৭১০৳। আমাদের মোট টাকা থেকে ১০,০০০৳ ছিল যাকাতের জন্য। তাই আমরা সেটি উত্তর গাজ্জার এক ভাইকে দিয়েছিলাম।
কিন্তু তিনি তার নিকট হঠাৎ আসা এই রিযিকের জন্য শুকরিয়াস্বরূপ আমাদের প্রকল্পে তিনি ৫,২৯০৳ দান করে দেন। আর বাকী ৪,৭১০৳ নিজে রাখেন।
পরবর্তীতে গাজ্জার প্রকল্পগুলোর সাথে তার দান একত্রে খরচ করার কারণে উপরে আলাদাভাবে আর উল্লেখ করা হয় নি।
এই ছিল, ১১ তম ধাপে আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক গা/যা/য় অনুদান বিতরণের হিসাব। আমাদের নিকট এখনো অনেক ছবি, ভিডিও আছে। তা ইনশাল্লাহ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।
দায়িত্বশীল, আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন। ১১ তম ধাপে গাজায় অনুদান বিতরণ আলহামদুলিল্লাহ সমাপ্ত হলো।